Categories
দুনিয়া দেশ বিবিধ রাজ্য

ইডেনে মাত্র 20 রান দিয়ে সাত উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ক্রিকেটর স্বামী বিবেকানন্দ!

নিজস্ব প্রতিবেদন :-শুধুমাত্র এই যুগের নয় বহু যুগ আগে থেকেই বাঙালি তার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন প্রমাণ করে এসেছে। এখনো করে যাচ্ছে। বাঙালি যে কোনো অংশে পিছিয়ে থাকে না তার প্রমাণ এর আগে অক্ষরে অক্ষরে বিভিন্নভাবে দিয়ে এসেছে। আমি এই মুহূর্তে এমন একটি ঘটনার কথা বলতে চলেছি যা আপনাকে এবং আপনার চিন্তা ধারাকে পাল্টে দেবে ।

একশো পঁয়ত্রিশ বছর আগেকার কথা আমি এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চলেছি।ভারতে তখন ব্রিটিশ রাজ্য শাসন চলছে ।অকথ্য ভাবে অ-ত্যা-চা-র হচ্ছে ভারতীয়রা ইংরেজদের দ্বারা।

সেই সময় ইংরেজরা তাদের নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য ক্রিকেট খেলার প্রচলন শুরু করে । তারপরে সেই ক্রিকেট ধীরে ধীরে ভারতীয়দের মধ্যে জনপ্রিয় একটি খেলা হয়ে ওঠে। তবে ইংরেজদের তৈরি করা সেই ক্রিকেটেই কিস্তিমাত করেছিলেন এক বাঙালি । দিয়েছিলেন মুখের ওপর মোক্ষম জবাব।

ইডেন গার্ডেন এর বয়স তখন সবে ২০ হবে । সেসময় কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে টাউন ক্লাব টাউন ক্লাবের মুখোমুখি হয় কলকাতা ক্লাব ।যেটি ইংরেজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ।মুখোমুখি ক্রিকেট খেলাতে একদিকে ইংরেজ অন্যদিকে ভারতীয় বলাবাহুল্য বাঙালিরা। টানটান উত্তেজনা। যেখানে গোটা দেশের মধ্যে ইংরেজরা শাসন চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে সামান্য মাঠে তাদের শাসন চলবে এ মনটা হয়তো অনেকেই মনে করেছিলেন।

তবে ঘটনা ঘটলো সম্পূর্ণ উল্টো ।সেদিন গোটা ভারত বর্ষ সাক্ষী থাকলো অন্য এক ইতিহাসের।ইডেন গার্ডেনে মাঠে নামলেন ভারতের বীর সন্তান । মাত্র কুড়ি রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলে নেন এবং সব থেকে মজার বিষয় সেই ক্রিকেট ম্যাচে কুড়ি রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংরেজদের দল । যিনি ২০ রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলেছেন তিনি আর অন্য কেউ নয় আমাদের সবার পছন্দের স্বামী বিবেকানন্দ । যদিও তিনি তখন স্বামী বিবেকানন্দের নামে পরিচিত ছিলেন না ।তখন তিনি নরেন নামে পরিচিত ।

গণিতবিদ এবং উপমহাদেশের ক্রিকেট অগ্রদূত সারাদা রঞ্জন রায় প্রতিষ্ঠা করেন এ টাউন ক্লাব টাউন ক্লাবের হয়ে স্বামী বিবেকানন্দকে খেলার জন্য তিনি অনুরোধ জানাই । তাতে রাজি হয়ে যান স্বামী বিবেকানন্দ । বেশকিছুদিন বোলিং এর উপর অনুশীলনী করেন তিনি ।

তারপরে ম্যাচের নামার আগে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলেন” আবেগকে কাজে না লাগিয়ে মস্তিষ্ক কাজে লাগাও” । আর সেটাই করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ । ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে যুগান্তর বলে একটি পত্রিকায় । এই ধরনের ঘটনা অনেকেরই অজানা ছিল । তার পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে বাঙালি কোন অংশে কোন কাল ই পিছিয়ে ছিল না ।