Categories
রাজ্য

ডাক্তার সেজে রমরমিয়ে রুগী দেখছিলেন হাসপাতালের চুক্তি ভিক্তিক নাইট গার্ড।

সরকারি হাসপাতালের সুপার ছুটিতে রয়েছে। সেই সুযোগে সুপারএর কোয়ার্টার্সে ডাক্তার সেজে রমরমিয়ে প্র্যাকটিস চালাচ্ছিলেন হাসপাতালের চুক্তি ভিক্তিক নাইট গার্ড। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বৃহস্পতিবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল গাজোল গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে টের পেয়েই গা ঢাকা দেয় ওই নাইট গার্ড।তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন সুপারের কোয়ার্টার্সের কেয়ারটেকার। গাজোল থানায় ঘটনাটি জানিয়েছেন বলেও জানান।

জানা গেছে, এদিন সকালে চিকিৎসার জন্য গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন পিঙ্কি ভুঁইমালি নামে এক মহিলা। এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার বৃন্দাবন রায় এবং ডাক্তার শ্যামসুন্দর হালদারের চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি আবার অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। তাঁর কাছ থেকে রোগের বর্ণনা শুনে কেউ তাঁকে ডাঃ অঞ্জন রায়ের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী তিনি হাসপাতাল সুপার ডাক্তার অঞ্জন রায়ের কোয়ার্টার্সে যান। অভিযোগ, সেখানে তখন ডাক্তার সেজে রোগী দেখছিলেন ওই নাইট গার্ড। তাঁকে সহযোগিতা করছিলেন কেয়ারটেকার। ডাক্তার ভেবেই নাইট গার্ডের কাছে যান ওই মহিলা। পিঙ্কি বলেন, ‘‘একজন আরেকজনকে বলে ওকে দেখে একটা প্রেসক্রিপশন করে দে। ওদের একজন রোগের বর্ণনা শুনে প্রেসক্রিপশন করে দিয়ে বলে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিতে। ডাক্তারকে তুই তোকারি করছে আর হাসপাতাল থেকে না নিয়ে ওষুধ কিনতে বলছে বাইরে থেকে। এতে আমার সন্দেহ হয়।’’

ওষুধের দোকানে না গিয়ে প্রেসক্রিপশন নিয়ে এরপর সোজা হাসপাতালের আউটডোরে যান তিনি। প্রেসক্রিপশন দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তারদের চোখ কপালে ওঠে। ঘটনা জানাজানি হতেই সুপারের কোয়ার্টার্স ছেড়ে চম্পট দেয় ভুয়ো ডাক্তার।

জানা গেছে, রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে ওই যুবককে নাইট গার্ড হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। নাইট গার্ড থেকে সুপার তাকে নিয়ে আসেন হাসপাতালের ফার্মেসিতে। এখানেই বিভিন্ন ওষুধ এবং তার কার্যকারিতা সম্পর্কে বেশ কিছু জ্ঞান লাভ করে সে। অভিযোগ, তারপর থেকেই সুপারের অনুপস্থিতিতে তাঁর কোয়ার্টার্সে ডাক্তার সেজে রোগী দেখার কাজ করে ওই যুবক।

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিষয়টি খুবই গুরুতর। কয়েকদিনের মধ্যে কমিটির সভা ডেকে এই বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’ হাসপাতালে চার্জে থাকা মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার শ্যামসুন্দর হালদার বলেন, ‘‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। ডাক্তার সেজে হাসপাতালের সরকারি কাগজে প্রেসক্রিপশন লেখা অপরাধ। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে।’’ তিনি মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ করেছেন।