Categories
দেশ

জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন কাফিল খান, নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন ডাক্তার কাফিল খান। মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয় দ্রুত কাফিল খানকে মুক্তি দিতে হবে। বছরের শুরুতে NSA(ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট) লাগু করে ডাক্তার কাফিল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ডাক্তার খানের মায়ের পিটিশনের শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এদিন ডাক্তারের বিরুদ্ধে আনা চার্জ খারিজ করে দেয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোভিন্দ মাথুর এবং বিচারপতি সৌমিত্র দয়াল সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানান, তাঁর বিরুদ্ধে যে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সারবত্তাহীন।
ডক্টর খানকে মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার করে ইউপি পুলিশ তাঁকে আলিগড়ে নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে তাকে পার্শ্ববর্তী মথুরায জেলার জেলে পাঠানো হয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খান প্রথমবার মিডিয়ার লাইম লাইটে আসেন 2017 সালে। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের এক হাসপাতালে এক সপ্তাহের কম সময়ে 60 জন শিশু প্রাণ হারায়। এই ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয় তার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর প্রচেষ্টায় অনেক শিশুর প্রাণ বাঁচে। তিনি তাঁর বন্ধুর হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে উত্তরপ্রদেশের অনেক শিশুর প্রাণ বাঁচান। বিহারের বন্যাতেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করেন।

ডক্টর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, 2019 সালের 12 ই ডিসেম্বর আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে আন্টি সিএএ -এর বক্তৃতায় তিনি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেজন্য ফেব্রুয়ারীতে এনএসএ আইন লাগু করে তাঁকে জেলে পুরে দেওয়া হয়। জানুয়ারিতেই ইউপি পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স তাঁকে মুম্বাই থেকে আটক করে। অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

মাত্র কয়েকদিন আগে ডাক্তার কাফিলের জেলবন্দির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল যোগী সরকার। সরকারের নির্দেশ মেনে রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন কাফিলকে। কিন্তু সেই নির্দেশ এদিন খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। আদালত জানায়, কাফিলের বিরুদ্ধে এনএসএ প্রয়োগ বেআইনি। এবং তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। কোর্টের ফলে প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন কাফিল খান।