Categories
রাজ্য

প্রসঙ্গ অনলাইন ক্লাস।

আজকের সমাজে ইঁদুর দৌঁড় প্রতিযোগিতা লেগেই রয়েছে।আমার ছেলে অমুক হবে,তাকে এটা হতেই হবে অভিবাবকদের এই প্রত্যাশার চাপে তারা নাওয়া -খাওয়া ভুলেছে।ভুলেছে আনন্দ খেলাধুলো। তার মধ্যে বর্তমান করোনা আবহে বিদ্যালয় বন্ধ।তা বলে পড়াশুনো বন্ধ থাকবে? মা বাবা একসময় বলতেন, “ফোনে হাত দিবিনা।বই পড়।” “কম্পিউটারে বেশিক্ষণ খেলবেনা, চোখ ব্যথা হবে।”
তারাই এখন বলছেন, ” বাবু পড়তে বসো।অনলাইন ক্লাস হবে।” কিন্তু পড়ুয়াদের এভাবে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে তাদের কতটা ক্ষতি হচ্ছে তা বোঝা গেলো কর্ণাটক সরকার পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস নিষিদ্ধ করার ফলে। দেশের মধ্যে প্রথম কোন রাজ্য এ কাজ করলো।ছয়-সাত বছরের ছোট ছোট শিশুরাও যখন কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকছে, তখন তাদের চোখ, ঘাড় ব্যথা করছে। ছাপার বই পড়ার অভ্যেস আরো কমছে। এই অনলাইন ক্লাসের ফলে তাদের পিঠের ব্যাগের ভার হয়তো কমেছে, কিন্তু অজান্তেই তারা অন্য ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার এও বলেছেন এই ক্লাসের জন্য কোন বাড়তি অর্থ দিতে হবে না অভিভাবকদের। অনলাইন ক্লাস পঞ্চম শ্রেণীর পর থেকে চালু করলে হয়তো পড়ুয়ারা তার সঠিক অর্থ বুঝতে পারবে। ছোট শিশুদের জন্য বরং বাবা- মায়েরা একটু পরিশ্রম করে ইন্টারনেট, ইউটিউব ঘেঁটে ‘joyful learning’ এর বিভিন্ন উপায় খুঁজে বাচ্চাকে পড়াতে পারেন, তার সাথে সময় কাটাতে পারেন। বাড়িতে থেকেই ওরা ‘খেলাচ্ছলে শিখুক’। ডিজিটাল ক্লাসরুম অবশ্যই সমস্ত দেশেই হওয়া উচিত ।দৃশ্য-শ্রাব্য উপকরণের মাধ্যমে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে শিক্ষক মহাশয় সেটি তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন ,কিন্তু তাই বলে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে যা করা হচ্ছে তাতে আদৌ পড়াশোনার সঠিক মান বজায় থাকছে কি? এ প্রশ্ন থাকলো আমাদের পাঠকদের প্রতি।