Categories
বিবিধ

রথ যাত্রা নিয়ে সঙ্কটে বিজেপি

সূত্র: হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এবং ডিভিশন বেঞ্চে দুবার করে ঘোরার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। শেষে বঙ্গ বিজেপি-র রথ মামলা গিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ কোর্টে। সেখানেও খারিজ হয়ে গেল গেরুয়া কর্মসূচি। আদালত জানিয়ে দিল রথযাত্রা করতে পারবে না বিজেপি।এই কর্মসূচির ফলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলার যে গুরুতর অবনতি হতে পারে, সেটা মেনে নিল দেশের শীর্ষ আদালত। তবে আগে থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করে ও প্রশাসনকে আগাম জানিয়ে মিটিং-মিছিল করতে পারে বিজেপি।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রাজ্যের কাছে তিনটি যাত্রার জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষরা। কিন্তু রাজ‍্য প্রশাসন ‘হ্যাঁ’-‘না’ কিছুই না বলায় বিজেপি আদলতের দ্বারস্থ হয়। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ রায় দেয় ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত যাত্রা স্থগিত। চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় গেরুয়া শিবির। ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে নির্দেশ দেয় বিজেপি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে রথের পথ ঠিক করতে। কিন্তু বিজেপি রাজ্য দফতরে ফ্যাক্স করে নবান্ন জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে রথযাত্রায় অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। এরপর জল অনেক দূরে গড়ায়।

তারপর সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি-র তরফে আবেদন জানানো হয়েছিল যাতে অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। কিন্তু ক্রিসমাসের আগে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। জানিয়ে দেয়, ছুটির পর আদালত খুললেই হবে শুনানি। গত মঙ্গলবার প্রথম শুনানির পর আদালতে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, গোয়েন্দা রিপোর্টে যা উঠে এসেছে তা যেন আদালত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। ওই দিনই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় পরের মঙ্গলবার চূড়ান্ত শুনানি হবে।

রায় দানের পর বিজেপি-র দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেকারণেই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কোর্ট যা রায় দিয়েছে সেটা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।” বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, “রথযাত্রা আটকে যাওয়া মানে বিজেপি আটকে যাওয়া নয়। রথযাত্রা বন্ধ হলেও তৃণমূলের বিনাশ মমতা ঠেকাতে পারবেন না।”

গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখান দিয়ে রথযাত্রা যাবে, সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। আদালত তাতেই সিলমোহর দিল এ দিন। তবে রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, মিটিং-মিছিল করা গণতান্ত্রিক অধিকার। আগাম জানিয়ে যদি বিজেপি কোথাও জনসভা বা মিছিল করে, তাতে অনুমতি দিতে আপত্তি নেই রাজ্যের তরফ থেকে।

আদালতের আইনি যুদ্ধে বিজেপি বনাম রাজ্য সরকারের যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল গত দেড়মাস ধরে।আজ তাতে শেষ হাসি হাসল নবান্নই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s